এপ্রিল 4, 2020

প্রথমে, গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোর একটা পর্যালোচনা:

  • EUR/USD। জার্মানির বেকারিত্বের হার মার্চ মাসে অপরিবর্তিতই থেকে যায়, 5%-এ। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের ডেটা অত্যন্ত ভীতিকর দেখাচ্ছে: বেকারিত্বজনিত সুবিধা পাবার জন্য 6.648 মিলিয়ন আবেদন জমা পড়েছিল, যেটা মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই 10 মিলিয়নে পৌঁছে গেছে, যা গোটা শ্রমশক্তির 6%-এর সমান। কৃষিক্ষেত্রের বাইরে তৈরি হওয়া কর্মসংস্থানের সংখ্যাটা কমেছে: ফেব্রুয়ারীর +275K-এর সাপেক্ষে তা নেমে এসে দাঁড়িয়েছে -705K-তে। অন্যান্য সূচকগুলিও ভাল নয়। বেকারত্ব মহামন্দার (গ্রেট ডিপ্রেশন) সময়কার পরিসংখ্যানের থেকেও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই সঙ্গে, গোটা সপ্তাহ ধরে ডলারের দাম বেড়েছে, ইউরো থেকে প্রায় 350 পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে, যা এই ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন অর্থনীতিতে এই ধরনের ধ্বস দেখার জন্য বাজার তৈরিই ছিল এবং দরের ক্ষেত্রে আগে থেকেই এই বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেছিল। এছাড়াও, OPEC+ ফরম্যাটে ফিরে যাবার সম্ভাবনা ও তৈলযুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ও সৌদির শক্তিমন্ত্রীর করা মন্তব্যও ডলারের উত্থানে সাহায্য করেছিল। যদিও, এই বিষয়টিতে ততটাই ধোঁয়াশা রয়ে গেছে ঠিক যতটা ধোঁয়াশা COVID-19 করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলা লড়াই নিয়ে রয়েছে।
    সপ্তাহের শেষে, এইবার পাঁচদিন ধরে দক্ষিণ অভিমুখে হাঁটার পর, EUR/USD জুটি মোটামুটি একটা মজবুত অবলম্বন/প্রতিরোধের অঞ্চল 1.0800-এ পৌঁছায়, যেখানে এর শেষ পদচারণা দেখা গেছিল;
  • GBP/USD। এই জুটির জন্য সবচেয়ে সঠিক পূর্বাভাস গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণই দিয়েছিল, যা এই জুটির জন্য পার্শ্ববর্তী গতিবিধির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, যা সত্যিই অবাক করার মতো দেখাচ্ছে। এই জুটি গোটা সপ্তাহ ধরে 1.2245-1.2485-এর পরিসরেই থেকেছে, এবং এর অস্থিরতার পরিসর কখনোই 240 পয়েন্ট ছাপিয়ে যায়নি, যাকে, এখনকার এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে, সমতল (ফ্ল্যাট) বলেই গণ্য করা যেতে পারে। কিছু কিছু বিশ্লেষকের বিশ্বাস, এর কারণ হল, মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে অত্যন্ত শস্তার পাউন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বর্ধিত উৎসাহ, যা ব্রিটিশ অর্থনীতির বর্তমান সমস্যাগুলিকে সমান করে দিয়েছিল;
  • USD/JPY। তালিকায় এই জুটির জন্য একটা একইরকম রূপ GBP/USD-র ক্ষেত্রেও চোখে পড়ে, যারাও গোটা সপ্তাহ ধরে 180 পয়েন্টের (106.90-108.70) একটা চওড়া পার্শ্ববর্তী চ্যানেলেই থেকেছিল। আর সেটা এই ঘটনা সত্ত্বেও যে, গোটা সপ্তাহের জন্য ডলারের সূচক 2.5% উঠেছিল। এই দুই জুটির আচরণকে ব্যাখ্যা করে একটা বক্তব্য হল, বিনিয়োগকারী ও ফাটকা কারবারিরা এই দুই "মহিরূহ", ডলার ও ইউরো-র, সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এতটাই বিহ্বল হয়ে পড়েছিল যে, তারা ভবিষ্যতের জন্য পাউন্ড বা ইয়েনের উপর বাজি ধরা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিল, যখন এটা পরিষ্কারই ছিল যে এই দুই শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিতে কী ঘটে চলেছে এবং এদের নিয়ামক সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে;
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি মনে করে দেখুন যে, ক্রিপ্টোবাজারের পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য আমরা গত শনিবার থেকে চলতি শুক্রবার পর্যন্ত একটা সাত-দিনের বিরামকালকে ব্যবহার করেছি। এই সময়কালের মধ্যে BTC/USD জুটির অস্থিরতা ছিল প্রায় 23%: সোমবার, 03রা মার্চ তারিখে $5,870-এর স্তরে পড়ে যাবার পর, এই জুটি ঘুরে দাঁড়ায় এবং গত বৃহস্পতিবার, 02রা এপ্রিল তারিখে তা $7,260-এ উঠে আসে, আর তারপর আপনি ঘুরে গিয়ে নিচে নামে এবং এর দর আবার $7,000-এর স্তরের নিচে চলে যায়। আপনারা যদি তালিকাটা একবার দেখেন, তাহলে আপনারা স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে, এখন তিন সপ্তাহ ধরে, ঊর্ধ্বগতি (বুল) একনাগাড়ে তার প্রতিরোধ ভেঙ্গে বেরোবার ও $7,000-এর উপরে কিছুটা জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে গেছে, কিন্তু এখনও অবধি সফল হয়নি। করোনা ভাইরাসের জন্য তৈরি হওয়া সংকটের কারণে, বিনিয়োগকারীরা বেশ সতর্ক হয়ে রয়েছেন, তাদের প্রধান মুদ্রার অনেক বড় অংশকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করার ঝুঁকি নিচ্ছেন না। এই সপ্তাহ ধরে, ক্রিপ্টোবাজারের বাজারগত মূলধনে কোন পরিবর্তন আসেনি এবং তা $256 বিলিয়নের স্তরেই থেকে গেছে। ক্রিপ্টো ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড সূচক লাল অঞ্চল ছেড়ে বেরোয়নি: দুই সপ্তাহ আগে সেটা 9-এ ছিল, সাত দিন পর তার মান ছিল12, আর এখন সেটা সম্ভাব্য 100-র মধ্যে 14, যেটা এখনও বাজারে বেশ মজবুত ভীতির পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়।
    আর শীর্ষস্থানীয় সমগোত্রীয় অল্টকয়েনগুলোর ক্ষেত্রে, যেমন রিপল (XRP/USD), লিটকয়েন (LTC/USD) এবং ইথিরিয়াম (ETH/USD), তারাও, প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির পদাঙ্ক অনুসরণ করেই, এমন আকার তৈরি করে যাকে বলে "আরোহী ত্রিভুজ” (অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল), উঠতে চেষ্টা করে এবং তাদের নিজের-নিজের প্রতিরোধের অঞ্চলে কিছুটা জমি দখল করে: রিপল – $0.18-র উপরে, লিটকয়েন – $41-এর উপরে, এবং ইথিরিয়াম – $145-র উপরে।

 

আগামি সপ্তাহের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে, একাধিক বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলোকে, ও সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও গ্রাফিক্সভিত্তিক বিশ্লেষণের বহুবিধ পদ্ধতির ভিত্তিতে করা পূর্বাভাসগুলোকে একত্রিত করে, আমরা নিম্নোক্ত কথাগুলো বলতে পারি:

  • EUR/USD। নিয়ামস সংস্থাগুলো, ফেডেরাল রিজার্ভ এবং ECB উভয়েই, এখন শস্তার টাকায় তাদের বাজারগুলোকে ভরিয়ে দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু করোনা সংকটের আগুন এতটাই তীব্র যে, সেটা এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্চ মাসের অর্থনৈতিক ডেটা যে কাউকে বাকরুদ্ধ করে দিতে পারে। কিন্ত সেখানেই শেষ হচ্ছে না, এপ্রিলের ডেটা, যা আমরা একমাসের মধ্যেই দেখতে পাব, আরও বেশি বিস্ময়কর হতে পারে। সেই সঙ্গে, ফেডেরাল রিজার্ভের ব্যালান্স শিট দিন দিন বেড়েই চলেছে, এবং তাদের ব্যবসাকে সুবিধজনক করে তোলার (ইজিং) নীতি একটা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের আকর্ষণ কমিয়েছে। এই যুক্তি Nordea Markets-এর বিশ্লেষকদের এই মত ব্যক্ত করতে সাহায্য করেছে যে, EUR/USD জুটির 1.0000-এ পড়ে যাবার থেকে বরং 1.1500-এ ফিরে যাবার সম্ভাবনাই বেশি।
    অন্যদিকে, এমনকি ইউরোজোনেও, চলতি উদ্বৃত্ত অ্যাকাউন্ট সত্ত্বেও, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না। জার্মানি এবং উত্তর ইউরোপের দেশগুলো যারা EU-এর সদস্য সম্প্রতি ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইউরোজোনের আরও ছ’টি দেশের যৌথভাবে একটি বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে – যার নাম করোনাবন্ড। তারা তাদের মধ্যেকার এই মতানৈক্য কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা তা অদূর ভবিষ্যতেই, আগামি 07ই এপ্রিল, মঙ্গলবার, স্পষ্ট হয়ে যাবে, যে তারিখে ইউরো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর একটা বৈঠক হওয়ার কথা, যাতে EU-এর অর্থমন্ত্রীও থাকবেন, এবং আগামি 08ই এপ্রিল, বুধবার, ECB-রও তাদের আর্থিক নীতি নিয়ে একটা বৈঠক হওয়ার কথা। সেই সঙ্গে, আগামি 06ই এপ্রিল, সোমবার, OPEC-এর বৈঠক এবং 08ই এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফেডেরাল রিজার্ভের বৈঠকের ফলাফলগুলোও প্রবণতা তৈরিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
    এদিকে, বিশেষজ্ঞদের 65%, যাকে H4-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণ, অসিলেটরগুলোর 75% এবং প্রবণতার সূচকগুলোর 90% সমর্থন করেছে, নিম্নমুখী প্রবণতা জারি থাকবে বলে এবং এই জুটি মার্চ 20-23 সময়কালের নিম্নস্তর 1.0650-র অঞ্চলে পড়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। পরবর্তী অবলম্বন হল 1.0500, লক্ষ্য হল 01লা জানুয়ারী, 2017-র সর্বনিম্ন স্তর 1.0340।
    এটা উল্লেখ করা উচিৎ যে, সাপ্তাহিক থেকে যখন মধ্যমেয়াদি পূর্বাভাসের দিকে যাওয়া হয়, তখন পরিস্থিতিটা আমূল বদলে যায়, এবং এখানে বিশ্লেষকদের মধ্যে 65%-র প্রত্যাশা হল, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে এই জুটি ঘুরে দাঁড়াবে – মে মাসে,  প্রথমে এটা  1.1100-র উচ্চতায় ফিরবে আর তারপর 1.1240-এ, এবং, কালক্রমে 1.1500-র স্তরে উঠে আসবে। একই সাথে, বিশেষজ্ঞদের 45% এই ঘটনা অদূর ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন সম্ভাবনাকে খারিজ করে দিচ্ছেন না;

  • GBP/USD। EU থেকে বেরিয়ে যাবার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেবার পর, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার জন্য ব্রিটিশ নিয়ামক সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব কিছুই করছে। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, বিশ্লেষকদের 20%, যার সঙ্গে D1-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণও সহমত পোষণ করেছে, প্রত্যাশা করছেন এই জুটির 1.2245-1.2485-র পরিসরে পার্শ্ববর্তী গতির প্রবণতা বজায় থেকে যাবে। 50% বিশেষজ্ঞের প্রত্যাশা এই চ্যানেলটা ভেঙ্গে যাবে এবং এই জুটিকে 1.1640-1.1940-র অঞ্চলে নামিয়ে আনবে। বাকি 30%, অপরপক্ষে, উর্ধ্বগতির (বুল) পক্ষ নিয়েছেন, 1.2475, 1.2625 এবং 1.2840-এর স্তরগুলোতে প্রতিরোধের অঞ্চলের ইঙ্গিত দিয়ে। সূচকগুলোর ক্ষেত্রে, বেশিরভাগ প্রবণতা সূচকগুলো যখন লাল হয়ে রয়েছে, তখন অসিলেটরগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ অনৈক্যের ছবি দেখা যাচ্ছে: D1-এর উপরের 25% এই জুটির মাত্রতিরিক্ত ক্রয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, আর H4-এর উপর সমসংখ্যায় এদের মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির ইঙ্গিত দিচ্ছে;
  • USD/JPY বিশ্লেষকদের 60%-এর প্রত্যাশা এই জুটি 108.70-এর প্রতিরোধ ভেঙ্গে বেরোবে এবং ডলার মজবুত হয়ে 111.65-র স্তরে চলে যাবে। এই জুটির এর থেকে বেশি বৃদ্ধি সংশয়পূর্ণ, যেহেতু মার্চ 20 থেকে 25-এর মধ্যে তার একাধিক প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিম্নগতির (বিয়ার) সমর্থকের এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ - 40%, নিকটতম লক্ষ্যমাত্র হল 106.90-108.70-এর অলিন্দের সর্বনিম্ন প্রান্তে ফিরে যাওয়া। এটা যদি ভেঙ্গে বেরিয়ে যায়, তাহলে এই জুটি প্রথমে 105.00-এর অবলম্বন অঞ্চলের দিকে ছুটে যাবে, তারপর যাবে 103.15-এ, এবং তারপর 09ই মার্চের সর্বনিম্ন স্তর 101.15-র দিকে। এই জুটি কত সময়ের মধ্যে সেই পথ অতিক্রম করবে তা বলাটা কঠিন, কিন্তু সম্প্রতি এক সপ্তাহের মধ্যে 700 পয়েন্ট উপরে ওঠার কথা মাথায় রেখে বলা যেতে পারে তা খুব দ্রুতই হতে পারে।
    সূচকগুলির ক্ষেত্রে, তাদের মধ্যেকার অনৈক্যের ছবিটা অনেকটাই GBP/USD-র ছবির মতোই। H4-এর উপর, প্রবণতা সূচকগুলোর 70% এবং অসিলেটরগুলোর 75%-এর রং সবুজ, যেখানে বাকিগুলোর রং লাল। D1-এর উপরের ছবিটা আবার একেবারে উল্টো। H4-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণগুলোতে একটা আপোষের পরিস্থিতি দেওয়া হয়েছে: প্রথমে 111.00-র অঞ্চলের দিকে, তারপর খাঁড়া পতন 108.00-এর অবলম্বনের দিকে এবং তারপর আরও 100 পয়েন্ট নিচে;
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি Messari-র বিশ্লেষক কাও ওয়াং মনে করেন, এই সংকটকাল কেটে যাবার পর ক্রিপ্টোবাজারে বিটকয়েনের আধিপত্য 90%-কে ছাপিয়ে যেতে পারে, বর্তমানের 66%-এর পরিবর্তে, যেহেতু বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির সময় সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও প্রমাণিত মুদ্রাগুলোকে নিয়েই কাজ করতে পছন্দ করবেন। একইসঙ্গে, Skew-এর বিশ্লেষণ মঞ্চ অনুযায়ী, অপশন নিয়ে কেনাবেচা করা অংশগ্রহণকারীদের উপর চালানো সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে, এই বছর BTC/USD জুটি তাদের ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ দর $20,000-এ পৌঁছাতে পারবে না, এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা মাত্র 4%। অপশন নিয়ে ফাটকা কারবারিদের একটা অত্যন্ত ছোট অংশ এমনকি $10,000 অঙ্কের উপরে যাওয়ারও বাজি ধরেছে।
    তবে, বিনিয়োগকারীরা এখনও এই সংকটকালের জন্য বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারা চালু করা ছাপাখানারগুলোর প্রতি তাদের আশা টিকিয়ে বসে আছেন। "দ্রুত একটা অতি অবিশ্বাস্য অঙ্কের অর্থ আর্থিক বাজারগুলোতে ঢালা হবে," ট্যুইট করে বিয়ান্স ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের CEO চ্যাংপেং ঝাও এই মন্তব্য করেছেন। Blockstream-এর মুখ্য নীতিনির্ধারক স্যামসন মৌ তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল রিজার্ভের $6.2 ট্রিলিয়ন ডলার ছাপাবার সিদ্ধান্ত বিটকয়েনের জন্য একটা দারুণ বিজ্ঞাপন, যার সৃষ্টিই হয়েছিল অবাধে টাকা ছাপাবার ছাপাখানাগুলোর প্রতি-ভারসাম্য গড়ে তোলার উদ্দেশ্য। এটা যুক্তিযুক্ত যে, অবমূল্যায়নের সাপেক্ষে আইনি মুদ্রার উদ্বৃত্ত হওয়ায়, বিনিয়োগকারীরা আবার ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারগুলোর দিকে ঝুঁকবে, এবং BTC-র দর খাঁড়াভাবে উপরের দিকে যাবে।
    বিশ্লেষণ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা Glassnode-এর ডেটাও আশাবাদী দেখাচ্ছে, যার মতে অন্তত একটা BTC মুদ্রা রয়েছে এমন পকেটগুলোর সংখ্যা 8 লাখের রেকর্ড সংখ্যায় পৌঁছেছে। Kraken, OKEx, Bitfinex, Paxful এবং Luno-র মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলো থেকেও করোনা ভাইরাসের পটভূমিতে নতুন ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, Kraken অনুযায়ী, তাদের প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধীকরণের সংখ্যা 83% বেড়েছে।
    নিরাশাবাদীদের ক্ষেত্রে, আমরা সুপরিচিত বিশ্লেষক তথা কারবারি পিটার ব্র্যান্ডের কথা বলতে পারি, যিনি মনে করেন, চিরাচরিত আর্থিক বাজারগুলোর পতনের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে বিটকয়েন যদি সুস্থির বৃদ্ধি না দেখাতে পারে তাহলে এই মুদ্রা "বড়সড় সমস্যায়” পড়তে পারে।
    আর পরিশেষে, আরেকটা অতি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিই, যেটা নিঃসন্দেহে এমনকি তাদেরকেও খুশি করবে যারা কোন একসময় $20,000-এ একটা বিটকয়েন কিনেছিলেন এবং তারপর থেকেই হতাশা ভরা চোখে এর দরগুলোর দিকে চেয়ে রয়েছেন। Kraken-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, 2044 সালের মধ্যে বিটকয়েনের দাম $350,000-এ পৌঁছাতে পারে, যাকে $68 ট্রিলিয়ন "শৈশবকাল”-এর বড় হয়ে ওঠার অবস্থান্তর সুবিধা করে দিতে পারে, যাদের আমরা "ডিজিটাল” প্রজন্ম বলতে পারে। অতএব, লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যান, সামগ্রিক লোকসানের কোন জায়গা নেই!

 

NordFX বিশ্লেষণ গোষ্ঠী

 

দ্রষ্টব্য: এই বক্তব্যগুলিকে আর্থিক বাজারে কাজ করার জন্য বিনিয়োগের পরামর্শ বা পথনির্দেশ হিসেবে দেখা উচিৎ নয় এবং এগুলির উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশন করা আর্থিক বাজারগুলিতে কেনা-বেচা করা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এবং তা লগ্নীকৃত অর্থ পুরোপুরি হারানোর কারণ হতে পারে


« বাজার বিশ্লেষণ ও সংবাদ
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করুন
মার্কেটে নতুন? ব্যবহার করুন “শুরু করা যাক” বিভাগটি।
প্রশিক্ষণ শুরু করুন
আমাদের অনুসরণ করুন (সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে)